সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ , ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুনামগঞ্জের নতুন ডিসি মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান প্রাণের উচ্ছ্বাসে বর্ষবরণ শিক্ষা ক্ষেত্রেও সিলেটকে এগিয়ে নিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী দ্রোহে-প্রতিবাদে উদীচী’র বর্ষবরণ আসমানে মেঘ দেখলেই কৃষকের মনে শঙ্কা জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমকে বিদায় সংবর্ধনা রেললাইন, শুল্ক স্টেশনসহ একগুচ্ছ দাবি সংসদে তুলে ধরলেন এমপি নূরুল ইসলাম আজ পহেলা বৈশাখ আগামী সপ্তাহে চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক ভিসা চালু করছে ভারত ভাঙন রোধ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা মইনপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১ নববর্ষ হাওরবাসীর জন্য বয়ে আনুক মঙ্গলবার্তা সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপন্নের আশা যে ছয় কারণে ব্যর্থ হল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধীদল ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি সব জায়গায় নিজেদের লোক বসিয়ে ‘ক্যু’ শুরু করেছে : জামায়াত আমির ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না : বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে বিশিষ্টজনদের সাথে ভারতের মনিপাল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় শান্তিগঞ্জে বাঁধ কেটে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ, স্বস্তিতে কৃষক সাত দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

দেশে প্রতিদিন ৫৬২ জন হৃদরোগে মারা যান

  • আপলোড সময় : ৩০-০৯-২০২৫ ০৬:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-০৯-২০২৫ ০৬:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
দেশে প্রতিদিন ৫৬২ জন হৃদরোগে মারা যান
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: দেশে প্রতিবছর কত মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হন, হৃদরোগে ভোগা মানুষের সংখ্যা কত, কত শিশু হৃৎপি-ের ত্রুটি নিয়ে জন্মাচ্ছে, প্রতিবছর কত মানুষ হৃদরোগে মারা যাচ্ছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। কিছু নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন বেশ কিছু রোগের বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে গবেষণা করছে। বাংলাদেশসহ প্রায় ২০০টি দেশ নিয়ে তারা গবেষণা করছে। বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ-সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান তাদের গবেষণা থেকে পাওয়া যাচ্ছে। রোগের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগও আছে। তাদের হিসাবে বাংলাদেশে প্রতিবছর ২ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগে মারা যান। অর্থাৎ দৈনিক ৫৬২ জনের মৃত্যু হচ্ছে হৃদরোগে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২৩ সেপ্টেম্বর উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৯ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে হৃদরোগ ও রক্তনালির (কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ) রোগে মারা যান ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ। এই পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতিদিন হৃদরোগ ও রক্তনালির রোগে ৭৭৭ জনের মৃত্যু হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন দুটি প্রতিষ্ঠানই ২০২১ সালের পরিসংখ্যান দিয়েছে। হৃদরোগ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো সময়ের তুলনায় হৃদরোগ শনাক্তের পরীক্ষা এখন দেশে বেশি হচ্ছে। জনবল, যন্ত্রপাতি ও হাসপাতালের সংখ্যা বেড়েছে। পরীক্ষা বেশি হওয়ার কারণে শনাক্ত বেশি হচ্ছে। অন্যদিকে মানুষের কায়িক শ্রম কমেছে, খেলাধুলার সুযোগ কমেছে, শহর-নগরে মানুষের হাঁটার মতো রাস্তার স্বল্পতা দেখা যাচ্ছে - এসব হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, ‘জাঙ্ক ফুড’ বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারের ব্যবহার বাড়ছে, এসব খাবারে অভ্যস্ত মানুষ হৃদ্রোগের শিকার হচ্ছেন বেশি। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স আন্ড ইভালুয়েশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে কোনো না কোনো হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন অনুমিত ১ কোটি ২ লাখ ৬২ হাজার ১৯০ জন। অন্যদিকে দেশে প্রতিবছর নতুন করে ৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৩৬ জন হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর অর্থ প্রতিদিন আনুমানিক ২ হাজার ৭২০ জন হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, কমপক্ষে ১১ ধরনের হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা তাঁরা দেন। সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হন ‘স্কেমিক হার্ট ডিজিজ’-এ। অন্য ধরনগুলোর মধ্যে আছে: কার্ডিওমায়োপ্যাথি অ্যান্ড মায়োকার্ডিটিস, রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ, নন-রিউম্যাটিক ভালভুলার হার্ট ডিজিজ, হাইপারটেনসিভ হার্ট ডিজিজ, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশান, এন্ডোকার্ডিটিস, অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম, পালমোনারি অ্যাট্রিয়াল হাইপারটেনশন, লোয়ার এক্সট্রিমিটি পেরিফেরাল আর্টেরিয়াল ডিজিজ ও জন্মগত হৃদরোগ। হৃদরোগের ঝুঁকি : উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। দেশে হৃদরোগে যত মানুষ মারা যায়, তাদের ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল শাফি মজুমদার বলেন, উচ্চ রক্তচাপ হৃৎপি-ের মাংসপেশিকে মোটা করে দেয়। এর ফলে হৃদরোগের কার্যকারিতা হ্রাস পায়। অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপের কারণে রক্তনালি সরু হয়ে যায়। এ দুটোই হৃদরোগের বড় কারণ। যারা কম কায়িক শ্রমে অভ্যস্ত, তাদের হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির রোগ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেশি। দেশে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ২৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে কম কায়িক শ্রমে অভ্যস্ত। নারীর তুলনায় পুরুষর মধ্যে কায়িক শ্রম কম। অন্যদিকে একই বয়সী মানুষের ২০ দশমিক ৩ শতাংশ স্থূলকায়। এদের ওজন উচ্চতার তুলনায় বেশি। দেশে পুরুষের তুলনায় নারীর মধ্যে স্থূলতা বেশি দেখা যায়। দেশে হৃদরোগ চিকিৎসার অনেক উন্নতি হয়েছে। হৃৎপি- প্রতিস্থাপনসহ দু-একটি জটিল হৃদরোগের চিকিৎসা ছাড়া দেশে প্রায় সব ধরনের হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা দেশেই আছে। বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল আছে, যেখানে বিশ্বমানের চিকিৎসা হচ্ছে। তারপরও প্রতিবছর বহু মানুষ হৃদরোগ চিকিৎসায় দেশের বাইরে যাচ্ছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। সুতরাং হৃদরোগ যেন না হয়, সেই চেষ্টা জোরদার করতে হবে। এটা প্রমাণিত যে ৮০ শতাংশ হৃদরোগ প্রতিরোধযোগ্য। এ জন্য মানুষের মধ্যে এই রোগটির ঝুঁকি ও প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। অন্যদিকে হৃদরোগে আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা ঢাকায় কেন্দ্রীভূত না রেখে দেশের জেলা পর্যায়ে পৌঁছানোর উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
দ্রোহে-প্রতিবাদে উদীচী’র বর্ষবরণ

দ্রোহে-প্রতিবাদে উদীচী’র বর্ষবরণ